ঢাকায় বাসা শিফটিং: ঝামেলাহীন বাসা বদলের ১০টি টিপস

8 October 2026 · 7 min read · Pro Movers BD

ঢাকায় বাসা শিফটিং: ঝামেলাহীন বাসা বদলের ১০টি টিপস

ঢাকায় বাসা শিফটিং মানেই যানজট, সিঁড়ি, লিফটের সময় আর হাজারটা জিনিস। একটু আগে থেকে পরিকল্পনা করলে পুরো দিনটা অনেক সহজ হয়ে যায়। আমাদের সুপারভাইজাররা প্রতিটি পরিবারকে যে টিপসগুলো দেন, সেগুলোই এখানে।

১. আগে সার্ভে করিয়ে নিন

ফোনে আন্দাজে দাম না নিয়ে একটি ফ্রি সার্ভে ভিজিট নিন। সার্ভেয়ার আপনার জিনিস, তলা, লিফট আর রাস্তা দেখে নির্দিষ্ট কোটেশন দেবেন — শিফটিংয়ের দিন বাড়তি চার্জের ভয় থাকবে না।

২. বিল্ডিংয়ের অনুমতি নিন

পুরনো ও নতুন দুই বাসার কেয়ারটেকারকে তারিখ ও সময় জানান। অনেক বিল্ডিংয়ে নির্দিষ্ট সময়ে শুধু লিফট ব্যবহার করা যায়।

৩. অপ্রয়োজনীয় জিনিস কমান

পুরনো কাপড়, ভাঙা আসবাব আর অব্যবহৃত জিনিস আগেই দান বা বিক্রি করুন। কম জিনিস মানে ছোট ট্রাক আর কম খরচ।

৪. দামি জিনিস নিজের কাছে রাখুন

গয়না, টাকা, দলিল, পাসপোর্ট আর ল্যাপটপ আলাদা একটি ব্যাগে নিজের সাথে রাখুন।

৫. প্রতিটি কার্টনে লেবেল দিন

কোন রুমের জিনিস আর ভেতরে কী আছে — কার্টনের গায়ে লিখে দিন। নতুন বাসায় খুলতে অনেক সময় বাঁচবে।

৬. ফ্রিজ ও এসি আগে থেকে প্রস্তুত করুন

শিফটিংয়ের আগের রাতে ফ্রিজ বন্ধ করে খালি করুন। এসি খোলা ও লাগানোর কাজ টেকনিশিয়ান দিয়ে করান — এতে গ্যাস ও যন্ত্রাংশ নিরাপদ থাকে।

৭. প্রথম রাতের ব্যাগ গুছিয়ে রাখুন

কাপড়, ওষুধ, চার্জার, টয়লেট্রিজ আর বাচ্চাদের দরকারি জিনিস একটি আলাদা ব্যাগে রাখুন।

৮. সকাল সকাল শুরু করুন

ঢাকার যানজট এড়াতে সকালেই লোডিং শুরু করা ভালো। দূরপাল্লার শিফটিং হলে রাতের ট্রাক চলাচলের নিয়ম মাথায় রাখুন।

৯. একজন সুপারভাইজার নিশ্চিত করুন

পুরো কাজের দায়িত্বে একজন সুপারভাইজার থাকলে কোনো জিনিস হারানো বা ভুল রুমে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

১০. শেষে মিলিয়ে নিন

সব জিনিস নামানোর পর সুপারভাইজারের সাথে একবার ঘুরে দেখুন — আসবাব ঠিক জায়গায় আছে কিনা, কোনো ক্ষতি হয়েছে কিনা।

ঢাকায় বাসা শিফটিংয়ের জন্য আজই ফ্রি সার্ভে বুক করুন, অথবা ইনস্ট্যান্ট এস্টিমেট নিন। হটলাইন: 09697-333030।

বাসা বদলের সিদ্ধান্তগুলো আগে শেষ করুন

শিফটিংয়ের দিন কী নেবেন আর কী রেখে যাবেন, সেই সিদ্ধান্ত নিতে গেলে সময় নষ্ট হয়। ঘর ধরে তালিকা করুন। ব্যবহার করবেন না এমন জিনিস দান, বিক্রি বা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আগে নিন। যে জিনিস নিয়ে এখনও ভাবছেন, তার জন্য আলাদা তালিকা রাখুন এবং কোটেশন নিশ্চিত করার আগে সিদ্ধান্ত জানান। সার্ভের পর বড় আসবাব যোগ হলে আগের পরিকল্পনা ঠিক আছে কি না টিমকে জিজ্ঞেস করুন। শুধু শোবার ঘরের সংখ্যা দিয়ে পুরো মালামাল বোঝানো যায় না।

সপ্তাহ ধরে প্রস্তুতি ভাগ করে নিন

আগে বই, মৌসুমি কাপড় ও কম ব্যবহৃত জিনিস গুছিয়ে শুরু করুন। প্রতিদিন দরকার হয় এমন জিনিস শেষে রাখুন। প্রতিটি কার্টনে নতুন বাসার ঘরের নাম ও একটি ক্রমিক নম্বর দিন। শুধু পুরোনো ঘরের নাম দিলে নতুন ঠিকানায় বিভ্রান্তি হতে পারে। একই ধরনের কার্টন হলে বাইরে সংক্ষিপ্ত বিষয়বস্তু লিখুন। ব্যক্তিগত নথি বা মূল্যবান জিনিসের বিস্তারিত বাইরে লিখবেন না। কার্টনের তালিকা ফোনে এবং প্রয়োজনে কাগজে রাখুন।

দুই বিল্ডিংয়ের অনুমতি একসঙ্গে মিলিয়ে নিন

পুরোনো বাসায় কখন মাল নামানো যাবে এবং নতুন বাসায় কখন ওঠানো যাবে, দুটি তথ্যই দরকার। ব্যবস্থাপনার অনুমতি, লিফটের সময়, গেট খোলার দায়িত্ব ও ট্রাক দাঁড়ানোর জায়গা জেনে নিন। একটি বিল্ডিংয়ে সুবিধা থাকলেই অন্যটিতে একই সুবিধা থাকবে না। অনুমতির জন্য যে ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছেন, তার যোগাযোগ রাখুন। কোনো জামানত বা পরিদর্শনের নিয়ম থাকলে সেটি বিল্ডিংয়ের কাছ থেকে লিখিতভাবে বুঝে নিন; এলাকাভিত্তিক সাধারণ নিয়ম ধরে নেবেন না।

পরিবারের প্রয়োজনের জন্য আলাদা ব্যাগ

শিফটিংয়ের সময় রান্নাঘর বা বিছানার জিনিস সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া নাও যেতে পারে। ওষুধ, খাবার পানি, প্রয়োজনীয় পোশাক, ফোনের চার্জার ও প্রাথমিক পরিচ্ছন্নতার জিনিস আলাদা রাখুন। শিশু বা বয়স্ক ব্যক্তির প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাগ সাজান। নগদ টাকা, গয়না, মূল পরিচয়পত্র ও বাসার চাবি নিজের হেফাজতে রাখুন। মূল কার্টন কোন গাড়িতে গেছে তা খুঁজে এসব বের করার ওপর নির্ভর করবেন না।

আসবাব খোলা ও যন্ত্রের কাজ আলাদা করুন

খাট বা আলমারি খুলতে হলে কোন অংশ কোন জিনিসের তা চিহ্নিত রাখুন। আগে মেরামত করা আসবাব, কাচের দরজা বা নড়বড়ে জোড়া টিমকে দেখান। সব আলমারি একইভাবে খোলা যায় না। এসি, গিজার বা ওয়াশিং মেশিন বহন করা এবং সংযোগের কাজ এক নয়। নতুন বাসার সংযোগ প্রস্তুত কি না আগে জেনে নিন। প্রয়োজনীয় কারিগরি কাজ কোটেশনে আলাদাভাবে বোঝা থাকা উচিত।

মাল নামানোর সময় তালিকা দিয়ে কাজ করুন

নতুন বাসায় বড় আসবাব বসানোর জায়গা ঠিক থাকলে কার্টন সরিয়ে বারবার পথ করতে হয় না। ভঙ্গুর জিনিস রাখার জন্য নিরাপদ স্থান আলাদা করুন। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ঘরের লেবেল ও তালিকা দিন। উপস্থিত না থাকতে পারলে কে সিদ্ধান্ত নেবেন তা আগেই জানান। কোনো আসবাব বা কার্টন নিয়ে অসংগতি থাকলে একই সময়ে রেফারেন্সসহ জানান। ছবি প্রাসঙ্গিক হলে তুলুন, তবে অভিযোগের বিবরণ পরিষ্কারভাবে লিখুন।

কোটেশন পড়ার সময় যে প্রশ্নগুলো করবেন

প্যাকিংয়ের কতটুকু কাজ, কোন আসবাব খুলে জোড়া লাগানো, কোন যন্ত্রের কাজ এবং কতটি গন্তব্য অন্তর্ভুক্ত—সেগুলো বুঝে নিন। সার্ভে বা ভিডিও দেখে যে শর্তে পরিকল্পনা করা হয়েছে, বাস্তবে তা বদলালে জানাতে হবে। অনুরোধ পাওয়ার রেফারেন্স এবং চূড়ান্ত কোটেশন একই বিষয় নয়। ঢাকার সার্ভিস তথ্য ও বিস্তারিত কোটেশনের ফর্ম থেকে আপনার কাজের পরিধি ঠিক করে নিতে পারেন।

কোটেশন চাওয়ার আগে তথ্য গুছিয়ে নিন

পুরোনো ও নতুন ঠিকানার জন্য আলাদা তথ্য রাখুন। বাড়ি, সড়ক, ব্লক বা সেক্টর, তলার নম্বর, লিফট এবং ট্রাক দাঁড়ানোর জায়গা লিখুন। শুধু এলাকার নাম দিলে প্রবেশপথ বোঝা যায় না। কোনো তথ্য নিশ্চিত না হলে সেটি অনুমান করে না লিখে অনিশ্চিত বলুন। সার্ভের সময় ওই বিষয়টি যাচাই করার অনুরোধ করুন। একজন দায়িত্বশীল যোগাযোগকারী ঠিক করুন, যিনি প্রয়োজনে বিল্ডিং ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন।

লিফট আছে কি না এবং আসবাব নেওয়ার উপযোগী কি না—দুটি আলাদা বিষয়। দরজা, ভেতরের জায়গা, করিডরের বাঁক এবং সিঁড়ির ল্যান্ডিং দেখুন। বড় আলমারি বা ফ্রিজের মাপ জানা থাকলে দিন। দরকারি ছবি নিরাপদ জায়গা থেকে তুলুন। ছবি তুলতে গিয়ে উচ্চতায় ওঠা, বৈদ্যুতিক সংযোগ খোলা বা অন্য বাসিন্দার ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করবেন না। লিফট ব্যবহার করা না গেলে সিঁড়ির প্রকৃত অবস্থাও জানাতে হবে।

প্যাকিং ও বাড়তি কাজের সীমা ঠিক করুন

কোন জিনিস নিজে প্যাক করবেন এবং কোনটি টিমকে করতে বলবেন, তা আলাদা করুন। ছোট কার্টনে ভারী বই রাখুন, যাতে বড় বাক্স অতিরিক্ত ভারী না হয়। কাচ, আয়না, পাথরের টপ এবং ভঙ্গুর জিনিস চিহ্নিত করুন। পুরোনো ক্ষতি বা নড়বড়ে জোড়া আগে জানালে নিরাপদ পরিকল্পনা করতে সুবিধা হয়। খোলা তাক, ড্রয়ার বা স্ক্রু আলাদা করলে মূল আসবাবের সঙ্গে মিলিয়ে লেবেল দিন।

এসি, গিজার বা ওয়াটার ফিল্টারের সংখ্যা দেওয়া মানেই খোলা, বসানো, গ্যাস, বৈদ্যুতিক বা পানির লাইনের কাজ চাওয়া নয়। কোন কাজ প্রয়োজন, স্পষ্ট করে বলুন। কারিগরি কাজের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তির পরামর্শ নিন। কোনো সংযোগ নিরাপদ কি না নিশ্চিত না হলে নিজে খুলবেন না। যন্ত্রের প্রস্তুতি ও পুনরায় চালু করার ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা মানুন; সব মডেলের জন্য একই নিয়ম ধরে নেবেন না।

শিফটিংয়ের দিন দায়িত্ব ভাগ করুন

শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও পোষা প্রাণীকে মাল ওঠানো-নামানোর সক্রিয় জায়গা থেকে নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করুন। দরজা, সিঁড়ি ও জরুরি বের হওয়ার পথ খালি রাখুন। চাবি, ওষুধ, চার্জার, জরুরি কাপড় এবং মূল্যবান কাগজপত্র নিজের সঙ্গে নিন। জরুরি ব্যাগ মূল কার্টনের মধ্যে রেখে দেবেন না। নতুন বাসায় কে দরজা খুলবেন এবং কোথায় কোন আসবাব যাবে, আগেই ঠিক করুন।

নামানোর সময় আসবাব ও কার্টনের তালিকা মিলিয়ে নিন। চুক্তিতে থাকা জোড়া লাগানো বা বসানোর কাজ পরীক্ষা করুন। কোনো সমস্যা থাকলে রেফারেন্সসহ দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে জানান। প্রতিটি শ্রমিককে আলাদা নির্দেশ দিলে বিভ্রান্তি বাড়তে পারে, তাই সুপারভাইজারের মাধ্যমে কথা বলুন। বাড়ির নিয়ম বা মালামালের পরিমাণ বদলালে নতুন কাজ শুরুর আগে পরিকল্পনা পর্যালোচনা করুন।

অনুরোধ, কোটেশন ও নিশ্চিত বুকিং আলাদা

ফর্ম জমা দেওয়া মানেই বুকিং বা সার্ভের সময় নিশ্চিত নয়। আমাদের টিম তথ্য দেখে যোগাযোগ করবে। কোটেশনে কী অন্তর্ভুক্ত, কী বাদ এবং কোন তথ্য যাচাই বাকি—সেগুলো পড়ুন। কোনো অনলাইন অনুমানকে চূড়ান্ত বিল ধরে নেবেন না। কোটেশনের ফর্ম, ফ্রি সার্ভের অনুরোধ এবং যোগাযোগের পেজ ব্যবহার করতে পারেন। টাকা পাঠানোর রিপোর্টও যাচাই না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত পেমেন্ট নয়। PIN বা OTP কখনো শেয়ার করবেন না।

প্রশ্ন

No. Send your actual inventory, route, floors, lift and access so the team can prepare a reviewed quotation.

No. A free survey request records your preferred time; our team confirms availability and arrangements.