
পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ঢাকা-খুলনা শিফটিং অনেক দ্রুত হয়েছে — ফেরির দীর্ঘ অপেক্ষা নেই, তাই রাতে ঢাকা থেকে ছাড়া ট্রাক সাধারণত ভোরের মধ্যে খুলনা পৌঁছায়।
শিফটিংয়ের দিন যেভাবে চলে
- ট্রাক (১৮ ফুট কভার্ড, ১৮ ফুট খোলা বা ২৩ ফুট কভার্ড) আগের রাতেই আপনার বাসার কাছে আনা হয়, কারণ দিনের বেলা বড় ট্রাক শহরে ঢুকতে পারে না।
- শিফটিংয়ের দিন সকাল থেকে প্যাকিং হয় এবং ধাপে ধাপে মালপত্র নিচতলায় নামানো হয়।
- সন্ধ্যার পর লোডিং শুরু হয়, আর ট্রাক রাত প্রায় ৯–১০টায় রওনা দেয়।
- ভোর ৬–৭টার আগে খুলনা পৌঁছালে সেদিন সকালেই আনলোড হয়। না হলে দিনের বেলার ট্রাক-নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে রাত প্রায় ৮–৯টায় আনলোড করা হয়।
মহাসড়কের উপযোগী প্যাকিং
দূরের শিফটিংয়ে শহরের ভেতরের চেয়ে মজবুত প্যাকিং লাগে। ফার্নিচার পলি ও কম্বলে মোড়ানো হয়, ইলেকট্রনিক্সে প্যাডিং দেওয়া হয়, আর কার্টন শক্ত করে প্যাক করা হয় যাতে রাস্তায় কিছু না নড়ে। কভার্ড ভ্যান সবকিছু বৃষ্টি ও ধুলা থেকে রক্ষা করে।
দুই প্রান্তেই টিম
Pro Movers BD-এর ঢাকা প্রধান অফিসের পাশাপাশি খুলনায় শাখা রয়েছে। ঢাকার টিম লোড করে, একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি ট্রাকের সঙ্গে যান, আর খুলনার টিম আনলোড, ফার্নিচার বসানো ও যন্ত্রপাতি আবার লাগাতে সাহায্য করে।
নিজের সঙ্গে যা রাখবেন
গয়না, নগদ টাকা, কাগজপত্র ও ল্যাপটপ নিজে বহন করুন। প্রথম রাতের জন্য একটি ব্যাগে কাপড়, ওষুধ ও চার্জার রাখুন, কারণ ট্রাক আপনার পরে পৌঁছাতে পারে।
কোটেশন নিন
দূরত্ব, ট্রাকের আকার, প্যাকিং ও তলা অনুযায়ী খরচ ঠিক হয়। আপনার তথ্য দিয়ে কোটেশনের অনুরোধ করুন অথবা লিখিত কোটেশনের জন্য ফ্রি সার্ভে বুক করুন। হটলাইন: ০৯৬৯৭-৩৩৩০৩০ · হোয়াটসঅ্যাপ: ০১৯১০-৯১৩০৩০।
যাত্রার দুই প্রান্ত স্পষ্ট করুন
ঢাকা-খুলনা শিফটিংয়ের অনুরোধে শুধু দুই শহরের নাম নয়, মাল তোলার এলাকা ও নতুন বাসার পুরো ঠিকানা দিন। কোন পাশে গাড়ি দাঁড়াতে পারবে, কোন গেট ব্যবহার হবে আর আনলোডের জায়গা বাসা, দোকান, অফিস নাকি স্টোরেজ — তা লিখে রাখুন। পরিবহনের পথ শিফটিংয়ের একটি অংশ মাত্র। কাজের পরিকল্পনা প্রস্তাবের আগে টিমকে দুই প্রান্তেই বিল্ডিং থেকে গাড়ি পর্যন্ত দূরত্ব ও যেকোনো নিষেধাজ্ঞা যাচাই করতে হবে।
আন্দাজের দূরত্ব নয়, রুট যাচাই চান
সেতুতে যাতায়াত, যানজট, আবহাওয়া ও কাজের পরিস্থিতি যাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে। টিমের উচিত বর্তমান তথ্য ও পরিকল্পিত গাড়ি দেখে উপযুক্ত রুট বেছে নেওয়া; এই গাইডে কোনো দূরত্ব বা নিশ্চিত যাত্রার সময় দেওয়া নেই। আনলোডের বিল্ডিংয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকলে পৌঁছানোর সমন্বয় কীভাবে হবে, জিজ্ঞেস করুন। ধরে নেওয়া পৌঁছানোর সময়ের ঠিক পরেই জরুরি কোনো কাজ রাখবেন না। কয়েকজনকে দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন নির্দেশনা না পাঠিয়ে নির্ধারিত সুপারভাইজারের মাধ্যমে নতুন বাসার যোগাযোগকারীকে জানিয়ে রাখুন।
হস্তান্তরের দীর্ঘ বিরতির জন্য লোড প্রস্তুত করুন
দীর্ঘ যাত্রা মানে কার্টনগুলো আপনার হাতে পৌঁছানোর আগে বেশিক্ষণ বন্ধ গাড়িতে থাকবে। ওষুধ, কাগজপত্র, চাবি, চার্জার ও দরকারি কাপড় আলাদা প্যাক করুন। ভেতরের জিনিস ও সম্ভাব্য নাড়াচাড়া অনুযায়ী কার্টন ও র্যাপিং উপযুক্ত কি না নিশ্চিত হোন। কোন জিনিস খাড়া রাখতে হবে বা ওপরে কিছু রাখা যাবে না, টিমকে জানান। যন্ত্রপাতির ভেতরে খাবার, তরল বা দামি জিনিস লুকিয়ে রাখবেন না; এগুলো সহজে ভুলে যাওয়া যায় আর হস্তান্তরের সময় যাচাই করা কঠিন।
খুলনায় কে মাল বুঝে নেবেন, ঠিক করুন
যিনি মাল বুঝে নেবেন তাঁর কাছে মালপত্রের তালিকা থাকা উচিত এবং নতুন বাসার রুমের লেবেলগুলো জানা থাকা উচিত। রওনার আগেই তাঁকে সঠিক চাবি ও ম্যানেজমেন্টের নম্বর দিন। আপনি পরে পৌঁছালে ফার্নিচার বসানোর কোন সিদ্ধান্ত তিনি নিতে পারবেন, তা ঠিক করে রাখুন। বাসা প্রস্তুত না থাকলে লোডিংয়ের আগেই টিমকে জানান; অপেক্ষা, অস্থায়ী স্টোরেজ ও বাড়তি নাড়াচাড়া — এগুলো কাজের পরিবর্তন, যা যাচাই করতে হয়। শুধু শিফটিংয়ের অনুরোধ করলেই স্টোরেজ সংরক্ষিত হয় না বা কারও উপস্থিতি ছাড়া ডেলিভারি অনুমোদিত হয় না।
কোটেশন আসল কাজের সঙ্গে মিলিয়ে রাখুন
পুরো সংসার একসঙ্গে এক ঠিকানায় যাবে, কিছু জিনিস অন্য ঠিকানায় যাবে, নাকি রেখে যাওয়া কিছু ফেরত আনতে হবে — স্পষ্ট করুন। এগুলো আলাদা কাজের পরিধি, গাড়ি ছাড়ার পর মুখে মুখে যোগ করার বিষয় নয়। যাচাই করা কোটেশনে কোন অনুমান ও কী বাদ আছে, লিখে রাখতে বলুন। খুলনা পেজে শাখার তথ্য আছে; কোটেশন ফর্মে পরিবহনের দাম আন্দাজ না করে বা স্বয়ংক্রিয় চূড়ান্ত বিল না বানিয়ে দূরের শিফটিংয়ের অনুরোধ নেওয়া হয়।
কোটেশন চাওয়ার আগে তথ্য গুছিয়ে নিন
পুরোনো ও নতুন ঠিকানার জন্য আলাদা তথ্য রাখুন। বাড়ি, সড়ক, ব্লক বা সেক্টর, তলার নম্বর, লিফট এবং ট্রাক দাঁড়ানোর জায়গা লিখুন। শুধু এলাকার নাম দিলে প্রবেশপথ বোঝা যায় না। কোনো তথ্য নিশ্চিত না হলে সেটি অনুমান করে না লিখে অনিশ্চিত বলুন। সার্ভের সময় ওই বিষয়টি যাচাই করার অনুরোধ করুন। একজন দায়িত্বশীল যোগাযোগকারী ঠিক করুন, যিনি প্রয়োজনে বিল্ডিং ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন।
লিফট আছে কি না এবং আসবাব নেওয়ার উপযোগী কি না—দুটি আলাদা বিষয়। দরজা, ভেতরের জায়গা, করিডরের বাঁক এবং সিঁড়ির ল্যান্ডিং দেখুন। বড় আলমারি বা ফ্রিজের মাপ জানা থাকলে দিন। দরকারি ছবি নিরাপদ জায়গা থেকে তুলুন। ছবি তুলতে গিয়ে উচ্চতায় ওঠা, বৈদ্যুতিক সংযোগ খোলা বা অন্য বাসিন্দার ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করবেন না। লিফট ব্যবহার করা না গেলে সিঁড়ির প্রকৃত অবস্থাও জানাতে হবে।
প্যাকিং ও বাড়তি কাজের সীমা ঠিক করুন
কোন জিনিস নিজে প্যাক করবেন এবং কোনটি টিমকে করতে বলবেন, তা আলাদা করুন। ছোট কার্টনে ভারী বই রাখুন, যাতে বড় বাক্স অতিরিক্ত ভারী না হয়। কাচ, আয়না, পাথরের টপ এবং ভঙ্গুর জিনিস চিহ্নিত করুন। পুরোনো ক্ষতি বা নড়বড়ে জোড়া আগে জানালে নিরাপদ পরিকল্পনা করতে সুবিধা হয়। খোলা তাক, ড্রয়ার বা স্ক্রু আলাদা করলে মূল আসবাবের সঙ্গে মিলিয়ে লেবেল দিন।
এসি, গিজার বা ওয়াটার ফিল্টারের সংখ্যা দেওয়া মানেই খোলা, বসানো, গ্যাস, বৈদ্যুতিক বা পানির লাইনের কাজ চাওয়া নয়। কোন কাজ প্রয়োজন, স্পষ্ট করে বলুন। কারিগরি কাজের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তির পরামর্শ নিন। কোনো সংযোগ নিরাপদ কি না নিশ্চিত না হলে নিজে খুলবেন না। যন্ত্রের প্রস্তুতি ও পুনরায় চালু করার ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা মানুন; সব মডেলের জন্য একই নিয়ম ধরে নেবেন না।
শিফটিংয়ের দিন দায়িত্ব ভাগ করুন
শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও পোষা প্রাণীকে মাল ওঠানো-নামানোর সক্রিয় জায়গা থেকে নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করুন। দরজা, সিঁড়ি ও জরুরি বের হওয়ার পথ খালি রাখুন। চাবি, ওষুধ, চার্জার, জরুরি কাপড় এবং মূল্যবান কাগজপত্র নিজের সঙ্গে নিন। জরুরি ব্যাগ মূল কার্টনের মধ্যে রেখে দেবেন না। নতুন বাসায় কে দরজা খুলবেন এবং কোথায় কোন আসবাব যাবে, আগেই ঠিক করুন।
নামানোর সময় আসবাব ও কার্টনের তালিকা মিলিয়ে নিন। চুক্তিতে থাকা জোড়া লাগানো বা বসানোর কাজ পরীক্ষা করুন। কোনো সমস্যা থাকলে রেফারেন্সসহ দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে জানান। প্রতিটি শ্রমিককে আলাদা নির্দেশ দিলে বিভ্রান্তি বাড়তে পারে, তাই সুপারভাইজারের মাধ্যমে কথা বলুন। বাড়ির নিয়ম বা মালামালের পরিমাণ বদলালে নতুন কাজ শুরুর আগে পরিকল্পনা পর্যালোচনা করুন।
অনুরোধ, কোটেশন ও নিশ্চিত বুকিং আলাদা
ফর্ম জমা দেওয়া মানেই বুকিং বা সার্ভের সময় নিশ্চিত নয়। আমাদের টিম তথ্য দেখে যোগাযোগ করবে। কোটেশনে কী অন্তর্ভুক্ত, কী বাদ এবং কোন তথ্য যাচাই বাকি—সেগুলো পড়ুন। কোনো অনলাইন অনুমানকে চূড়ান্ত বিল ধরে নেবেন না। কোটেশনের ফর্ম, ফ্রি সার্ভের অনুরোধ এবং যোগাযোগের পেজ ব্যবহার করতে পারেন। টাকা পাঠানোর রিপোর্টও যাচাই না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত পেমেন্ট নয়। PIN বা OTP কখনো শেয়ার করবেন না।
প্রশ্ন
না। আপনার আসল মালপত্রের তালিকা, রুট, তলা, লিফট ও যাতায়াতের তথ্য পাঠান, যাতে টিম যাচাই করে কোটেশন তৈরি করতে পারে।
না। ফ্রি সার্ভের অনুরোধে আপনার পছন্দের সময় লেখা থাকে; আমাদের টিম সময় ও ব্যবস্থা নিশ্চিত করে জানায়।